আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ৩ নং শতগ্রাম ইউনিয়নে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রার্থীরা নেমে পড়েছেন কোমর বেঁধে, চলছে জোরদার গণসংযোগ। অনেকেই নিজেদের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। আবার অনেক প্রার্থীর নাম মুখে মুখে ঘুরলেও, তারা এখনো মাঠে নামবেন কি না, তা নিয়ে এক ধরনের দোদুল্যমানতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন।
তবে সময়ের সাথে সাথে বদলেছে যুগ, বদলেছে মানুষের চিন্তাধারাও। বর্তমান ভোটাররা আর সেই পুরনো ধাঁচের, গতানুগতিক কিংবা ক্লাসিক ঘরানার প্রার্থী আশা করেন না। ভোটারদের প্রত্যাশা এখন একজন যুগোপযোগী ও সচেতন প্রতিনিধির। এখানে আধুনিক বা আপডেটেড বলতে কেবল তরুণ প্রার্থীদের বোঝানো হচ্ছে না; বরং এমন একজন নাগরিককে বোঝানো হচ্ছে, যিনি বর্তমান সময়ের দাবি বোঝেন, প্রযুক্তিবান্ধব এবং আধুনিক মনস্তত্ত্বের অধিকারী।
ইউনিয়নজুড়ে কিছু প্রার্থীদের নির্বাচনি আমেজ ও গণসংযোগের কমতি না থাকলেও, প্রার্থীদের মাঝে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী ইশতেহার বা রূপরেখা চোখে পড়েনি। ইউনিয়ন নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতেহার ছিলো মৌখিক, যুগের প্রয়োজনে তা এখন হওয়া জরুরি লিখিত। সাধারণ মানুষ যখনই তাদের প্রাত্যহিক অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা প্রার্থীদের সামনে তুলে ধরছেন, উত্তর মিলছে কেবলই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে!
কিন্তু একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বর্তমান ভোটারদের দাবি একদম স্পষ্ট– আসন্ন প্রার্থীদের কাছে ইউনিয়ন উন্নয়নের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা ব্লু-প্রিন্ট থাকতে হবে। তারা ইউনিয়নের কোন কোন সেক্টরে জোরদার ভূমিকা রাখতে চান এবং কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রাখবেন, তা লিখিত আকারে প্রকাশ করতে হবে।
ইউনিয়নের কোন অঞ্চলের কী সমস্যা এবং সেগুলো সমাধানের বাস্তবসম্মত উপায় ও পরিকল্পনা কী, তা ভোটারদের পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। দিনশেষে এই ইশতেহার যেন কেবল কাগজের দলিল না হয়ে একটি টু-ডু লিস্টের মতো কাজ করে, যা দেখে সাধারণ জনগণ পরবর্তী সময়ে তাদের কাজের হিসাব মিলিয়ে নিতে পারে; প্রার্থীদের সেই জবাবদিহিতার মানসিকতাও রাখতে হবে।
মানুষের এই চিন্তাচেতনার পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো যুগের পর যুগ ধরে ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা জাতীয় সংসদের জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া ফাঁকা বুলি ও সীমাহীন প্রতিশ্রুতিভঙ্গ। দশকের পর দশক ধরে চলা শোষণ, বঞ্চনা ও অধিকারহরণের শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন।
তারা আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে ভুলতে রাজি নয়। শতগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ এখন প্রতিনিয়ত খুঁজছে একজন যোগ্য, সৎ ও দূরদর্শী প্রতিনিধি।
নির্বাচনী মাঠের এই আবহে প্রশ্নটা এখন সাধারণ ভোটারদের মনে– এই লেখার পর কি প্রার্থীরা তাদের চিন্তাভাবনায় আধুনিকতার ছোঁয়া আনবেন, নাকি সেই মান্ধাতা আমলের গদবাঁধা নিয়মেই চলতে থাকবে নির্বাচনী প্রচার? প্রশ্ন রইল সকলের কাছে, উত্তর মিলবে হয়তো খুব শীঘ্রই, তাদের নির্বাচনী প্রচারণার পদ্ধতি দেখে।
মতামত লিখেছেন- রেজাউল সরকার রনি