সম্প্রতি ঝাড়বাড়ী এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র ঝড়ে বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা দীর্ঘ সময় অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে যখন মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও জরুরি তথ্যের আদান-প্রদান সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, ঠিক তখনই ঝাড়বাড়ী জুড়ে নেমে আসে মোবাইল নেটওয়ার্কের চরম বিপর্যয়।
গ্রামীণফোন, রবি কিংবা বাংলালিংক– শীর্ষস্থানীয় সব মোবাইল অপারেটরের টাওয়ার থাকা সত্ত্বেও কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটেই পুরো এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ ও পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
দুর্যোগে কেন ব্যর্থ মোবাইল অপারেটররা?
ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকাটা অবাস্তব কিছু নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি নিয়ে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর গ্রামীণফোন কোনোমতে অল্প কিছুক্ষণ তাদের সেবা সচল রাখতে পারলেও, রবির মতো বড় অপারেটরের নেটওয়ার্ক মুহূর্তের মধ্যেই গায়েব হয়ে যায়।
টেলিকম নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি মোবাইল টাওয়ারে পর্যাপ্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ কিংবা বিকল্প জেনারেটর সুবিধা থাকার কথা, যা বিদ্যুৎ না থাকলেও দীর্ঘ সময় নেটওয়ার্ক সচল রাখবে। কিন্তু ঝাড়বাড়ীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সামান্য দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং হলেই কোম্পানিগুলোর এই ব্যাকআপ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। দুর্যোগের সময় যখন মানুষ সবচেয়ে বেশি অসহায় থাকে, তখন অপারেটরদের এই অগ্রিম প্রস্তুতির অভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সামনে বর্ষা: এখনই প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান
সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। এই সময়ে ঝড়-ঝাপটা এবং তার ছিঁড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এখনই যদি মোবাইল কোম্পানিগুলো তাদের টাওয়ারের পাওয়ার ব্যাকআপ ও ব্যাটারি সিস্টেম উন্নত না করে, তবে আগামী দিনগুলোতে ঝাড়বাড়ীর মানুষের ভোগান্তি এবং নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।
দুর্যোগের ওপর মানুষের হাত নেই, কিন্তু দুর্যোগকালীন সেবা সচল রাখার প্রযুক্তি ও সামর্থ্য এই বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অবশ্যই আছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা কেটে নিলেও সংকটের সময় তারা কেন মুখ থুবড়ে পড়বে? ঝাড়বাড়ীবাসীর দাবি– আসন্ন বর্ষার আগেই প্রতিটি টাওয়ারে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপ পাওয়ারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
উপ-সম্পাদকীয়, বীরগঞ্জ নিউজ২৪