মোঃ আশিক মুন্না | দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় অধিকাংশ এলাকায় এক সময় মাটির তৈরি ঘরই ছিল একমাত্র অবলম্বন।যা ছিল গরীবের এসি ঘর নামে পরিচিত।কিন্তু কালের পরিবর্তনে সেই মাটির ঘরগুলো আজ বিলুপ্তির পথে।

শীত-গ্রীষ্ম সকল ঋতুতেই মাটির ঘর ছিল আরামদায়ক বাসস্থান।একসময় খানসামা উপজেলার প্রায় প্রত্যেকটি ইউনিয়নে চোখে পড়ার মতো ছিল এই মাটির ঘর। ধনী-গরিব সকলেরই থাকতো এই ঘর।এই ঘরে শীতকালে গরম আর গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা অনভুতি হতো।

এই এসি ঘরে থাকা যেমন খুব সহজ তেমনি তৈরী করা যেতো খুব সহজে। আর তার জন্য প্রয়োজন হতো এঁটেল দো-আঁশ মাটি। বাড়ির কর্তা/কর্তৃ ও তাদের ছেলে-মেয়েরা মিলেই অল্প কয়েক দিনেই তৈরি করতো ঘর। ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করা হতো ধানের খড়। খড় দিয়ে এমনভাবে ছাউনি দেয়া যেন ঝড়-বৃষ্টির কোন আঘাতেই তেমন একটা ক্ষতি করতে পারে না।

খানসামা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আদিবাসি সাওতাল জনগোষ্ঠীদের মাঝে এখনও ছোট ছোট মাটির ঘর দেখা যায়।

এক সময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল। তখনকার সময়ে ধনী-গরিব কোন ভেদাভেদ ছিল না। তাছাড়া মাটির ঘরে আলাদা শান্তি ছিল। বর্তমানে মানুষের আধুনিক জীবন যাপন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটির বাড়ি ভেঙে ইটের বাড়ি তৈরীতে উঠে পরে লেগেছেন।

Facebook Comments

You may also like

বীরগঞ্জে ইট ভাটা মালিকের তান্ডবে নারীসহ ৭ জন হাসপাতালে

আবাদি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়ার