দেখতে দেখতে আরো একটি বছর অতিক্রম করলো এসএবিডি মামুন, তাপসসহ আরো ১৭ জন তরুণের হাত ধরে। এক বছরে বীরগঞ্জ পেয়েছে নতুন মাত্রায় কিছু ভালোবাসার স্বাদ, বীরগঞ্জের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চিনেছে মাতৃভূমির স্বরুপ। সংগঠনটি বর্তমান প্রজন্মের আকর্ষণীয়তা ধরে রেখে, দূর্বার গতিতে ছুটে চলতে চলতে, বীরগঞ্জের মাটি ও মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিগত এক বছরের বাস্তব চিত্র জ্বল জ্বল করছে বড় কিছু উদ্যোগের ঝলকানিতে।

সংগঠনের রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ২০১৩ সাল থেকে। এ বছরের আয়োজনটি ছিলো ভিন্ন মাত্রার। ঢাকা থেকে চাদপুর পর্যন্ত টাইটানিকের মত বিশাল লঞ্চে রিভারক্রসের স্মৃতি আজীবন মনে রাখবে ৪৫০ জন মানুষ। বীরগঞ্জের মানুষের কাছে এটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। একটি শিক্ষার্থী সংগঠনের কোন অথরিটি, দায়মুক্ততা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই এরকম একটি চ্যালেঞ্জিং আয়োজন হতবাক করে দেয়।

এসএবিডি এ্যাওয়ার্ড সংগঠনের নতুন কার্যক্রম। ২০১৭ সালে এটির প্রচলন শুরু হলেও এবারেই প্রথম প্রকৃত উদ্দেশ্যে প্রাদান হয়েছে এই অসামান্য পুরস্কারটি। সংগঠনের এই কাজটি পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী কাজ। সাধারণত ছোটদের কাজের মূল্যায়ন করে বড়রা, এই এ্যাওয়ার্ড প্রদানে বড়দের কাজের (প্রতিষ্ঠান ও মহৎ অর্থে বড় ব্যক্তি) মূল্যায়ন করে এসএবিডি এর মতো একটি ছোটদের মানে শিক্ষার্থীদের সংগঠন। এ বছর বীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (how dare you বিচ্ছুর দল, government body কে মূল্যায়ন করো?) এবং ডা. ডিসি রায়কে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কাজের জন্য এসএবিডি এ্যাওয়ার্ড-২০১৮ প্রদান করে।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বীরগঞ্জের কর্মশালাটি এই সংগঠনের প্রধান ও প্রথম কাজ। এটি সংগঠনের শুরু থেকেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ২৮ ও ২৯ রমজান, বীরগঞ্জ কলেজে। তবে এ বছর দুইদিন নয়, কর্মশালাটি একদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনটি বীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বক্তা ও আয়োজন নিয়ে একটি জটিলতা দেখা যায়। কর্মশালা জনসভায় পরিণত হয়। এবারের কর্মশালার আয়োজন ছিলো বাস্তবসম্মত, কর্মশালায় keynote speaker ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, মূল বক্তব্যের উপর ছিলো আলোচনা, পর্যালোচনা এবং মুক্ত আলোচনা। এবারের কর্মশালায় জনসভার হৈ-হুল্লোর ছিলো না, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পরিমাণে কম থাকলেও গুণগত মানে একটি সফল কর্মশালা ছিলো। এই কর্মশালার উদ্দেশ্য হলো উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত ও সহযোগিতা করা। এই কর্মশালাটির প্রভাব ইতোমধ্যেই বীরগঞ্জ কলেজ অনুভব করেছে। ২০০৯ সালে এই কর্মশালা শুরু হওয়ার পর শুধু মাত্র বীরগঞ্জ কলেজেই উচ্চ শিক্ষায় গমন অনেক বেড়ে গেছে। বীরগঞ্জ কলেজের বাইরেও অনেক শিক্ষার্থী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এই কর্মশালার সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক অবদান রেখেছে।

এতক্ষণে মনে হতে পারে এই কমিটি এই বছরটিকে বিশাল কর্মযজ্ঞে পরিণত করেছে। এই লখাটি বর্তমান কমিটির কোন অভিভাবক পড়ে থাকলে এতক্ষণে বকাবকি শুরু করেছে; পড়াশুনা নাই, ক্লাস-পরীক্ষা নাই, এসএবিডি নিয়ে ফাতরামু শুরু করছো, আজকে বাড়ি রওনা দাও, তোমার খবর আছে।

কমিটির কিছু বিষয়ে উন্নয়ন প্রয়োজন ছিলো, যেমন- ফেসবুক গুপে সক্রিয়তা, নিয়মিত মিটিং করা যা সংগঠন সক্রিয় রাখতে খুবই প্রয়োজন, আয়োজনগুলোতে আরো বেশি সমন্বয়। এসএবিডি এর আয়োজনগুলো হয় ছোট আকারে কিন্তু অনেক প্রাণবন্ত এবং অনেক ভালোবাসাময়।

যারা এ বছর দায়িত্বে ছিলো তারা আমাদের অনুজ, আমাদের ভবিষ্যৎ এবং ‘হামার বীরগঞ্জিয়া’। তাদের কোথাও কোনো ভূল নেই। তারা পড়াশুনার পাশাপাশি এতগুলা মহৎ কাজ করেছে, তাদের ভূল ধরার স্পর্ধা আমাদের নেই।

একটি আদর্শ বীরগঞ্জ গঠনে এসএবিডি আরো জড়ালো ভূমিকা রাখুক।

মাহমুদুল হাসান
উপজেলা মৎস্য অফিসার, জলঢাকা, নীলফামারী ও উদ্যোক্তা,এসএবিডি

Facebook Comments

You may also like

এমপি প্রার্থী নিজেই করছেন মাইকিং সঙ্গী অটো চালক!

বিশেষ সংবাদদাতাঃ  আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১