রুশো আহমেদ: একতা এক্সপ্রেস। নামের মাঝেই যার এক রকম শৃংখলাবোধ, ঐক্য ও সম্প্রীতি’র পরিচয় পাওয়া যায়। কার্যত উত্তরবঙ্গের দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলের কোটি মানুষ কে রাজধানী ঢাকা শহরের সাথে সম্পৃক্ত করে একই সূতোয় গাঁথার ব্রত নিয়েই সৃষ্ট একতা এক্সপ্রেস। দিনাজপুর টু ঢাকা রুটে চলমান একটি ঐতিহ্যবাহী আন্তঃনগর ট্রেন এর নাম একতা এক্সপ্রেস, যা প্রায় ৩১ বছর এর অধিক সময় ধরে নিরলস সেবা দিয়েই যাচ্ছে।
বৃটিশ আমল থেকেই এই ভূখন্ডে ট্রেন এক জনপ্রিয় বাহন। বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত এ অন্যতম প্রধান ভরসা রেল। কিন্তু তখন মেইল/লোকাল ট্রেন এর জয়জয়কার। পাকিস্তান আমলেও বজায় থাকে এই ধারা।

নয়া রাষ্ট্র বাংলাদেশ স্বাধীন এর প্রায় দেড় দশক পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালের শেষ দিকে সর্বপ্রথম আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস এর প্রচলন শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন রুটে নতুন নতুন সুবিধাসম্বলিত ট্রেন চালু হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সনের শুরু তে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যনগরী দিনাজপুর হতে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয় “একতা এক্সপ্রেস” নাম নিয়ে।

নব সৃষ্ট এই আন্তঃনগর ট্রেন গুলোর আসন ছিলো পূর্বের তুলনায় আরামদায়ক। ট্রেন এ যুক্ত হয় খাবার গাড়ি, যা এক অন্য মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও টয়লেট, বেসিন ইত্যাদি যুক্ত থাকায় তা দীর্ঘপথ ভ্রমণে যাত্রীদের জন্য বিশেষ সহায়ক হিসেবে পরিগণিত হয়।

ছিলো নামায এর জন্য সুবন্দোবস্ত। আর প্রতি কামরায় যাত্রী সেবায় নিয়োজিত একজন করে এটেনডেন্ট। প্রতি কোচ এ স্থাপিত লাউডস্পিকার এর সাহায্যে আযান ও বিভিন্ন স্টেশন এ প্রবেশ এর ঘোষণা দেওয়ার সুব্যবস্থাও রাখা হয়। এছাড়া আন্তঃনগর ট্রেন এ নতুন করে স্থাপিত হয় এক কোচ থেকে অন্য কোচ এ যাতায়াত এর ব্যবস্থাও। এতদ্বসংক্রান্ত কারণে শুরুতেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এই আন্তঃনগর সার্ভিস। উত্তরবঙ্গ হতে ঢাকা যাওয়ার একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন একতা এক্সপ্রেস-ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ফলশ্রুতি তে একই বছরেই একই রুটে “তিস্তা এক্সপ্রেস” নামক অপর একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়।

আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস সৃষ্টি হয় মিটারগেজ ট্রেন হিসেবে। কালের পরিক্রমায় এটি বর্তমানে ব্রডগেজ ট্রেন। অর্থাৎ ট্রেন এর আকার ও ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে আগের তুলনায়। একইভাবে এর মধ্যবর্তী চলাচলের পথও পরিবর্তিত হয়েছে বেশ কয়েকবার। তবে উৎপত্তিস্থল ও গন্তব্যস্থান হিসেবে দিনাজপুর ও ঢাকা আজো অক্ষুণ্ণ। ১৯৮৬ সালে জন্মের সময় একতা এক্সপ্রেস চলাচল করতো ২ রেক নিয়ে। তখন যমুনা নদী তে ব্রীজ ছিলো না বলে কোন ট্রেন সরাসরি উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা যেতে পারতো না।

একতা এক্সপ্রেস দিনাজপুর থেকে ছেড়ে এসে পার্বতীপুর, রংপুর, কাউনিয়া, গাইবান্ধা হয়ে বালাসী ঘাট এ এনে যাত্রীদের নামিয়ে দিতো। এরপর যাত্রী গণ রেলওয়ে এর নিজস্ব ফেরী সার্ভিস এর মাধ্যমে বিশাল যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে অপর প্রান্ত বাহাদুরাবাদ ঘাট এ পৌঁছাতো। তাদের অপেক্ষায় ঘাটের সন্নিকটেই দাঁড়িয়ে থাকতো একতা এক্সপ্রেস এর অপর রেক টি। যাত্রী সকলে আসার পর একতা এক্সপ্রেস ট্রেন টি পুনরায় যাত্রা শুরু করে জামালপুর, ময়মনসিংহ, জয়দেবপুর হয়ে পৌঁছাতো দেশের কেন্দ্রবিন্দু ও ঐশ্বর্যের নগরী ঢাকা তে, যে শহরে টাকা উড়ে বলে লোকমুখে প্রবাদ প্রচলিত ছিলো।

মূলত পেটের দায়ে কাজের আশাতেই উত্তরবঙ্গ থেকে লোকে এসে ভীড় জমাতো রাজধানী শহরে। কেউ কেউ আসতো শিক্ষালাভের আশায়। এই রকম উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢাকা শহরে আসার অন্যতম ভরসার নাম একতা এক্সপ্রেস। এই ভরসা তখনো যেমন, আজো অনেকটাই তেমন। কখনোই জৌলুস হারায়নি ট্রেন টি। বরং দিনে দিনে এগিয়েছে উন্নতির পথে।

১৯৯৮ সনে যমুনা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর তা উত্তরবঙ্গের জন্য যুগান্তকারী বিপ্লব বয়ে নিয়ে আসে। পূর্বের ন্যায় আর ফেরী পারাপার এর প্রয়োজন থাকলো না এর মাধ্যমে। ফলে সময় বাঁচলো, শ্রম বাঁচলো, বাড়লো মানুষের জীবনযাত্রার মান। যমুনা সেতু তে সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথ এর সুবিধাও রাখা হয়। এ কারণে পূর্বের ন্যায় বালাসী – বাহাদুরাবাদ ঘাট দিয়ে ফেরী তে যাত্রী পারাপার এর মাধ্যমে ট্রেন চলাচল গুরুত্ব হারায়।

যার ফলে এভাবে আরো অল্প কিছুদিন চলার পর একতা এক্সপ্রেস এর রুট পরিবর্তন করা হয়। নতুন পথে দিনাজপুর হতে ছেড়ে পার্বতীপুর, রংপুর, কাউনিয়া, গাইবান্ধা, বগুড়া, শান্তাহার, নাটোর হয়ে যমুনা ব্রীজ দিয়ে ট্রেন পারাপার করে ঢাকা। অর্থাৎ এই প্রথম একতা এক্সপ্রেস সরাসরি ঢাকা আসতে পারলো। কিন্তু এতে বহু ঘুরপথ (৫১৫ কিঃমিঃ) হওয়া তে অনেক সময় লাগতো আগের মতোই। আর তাই ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এ আবারো রুট পরিবর্তন। এবারে বিদ্যমান সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রুট এ নেওয়া হলো, যা আজ অবধি চলমান।

নতুন এই রুট হলো- দিনাজপুর থেকে ছেড়ে পার্বতীপুর, জয়পুরহাট, শান্তাহার, নাটোর দিয়ে যমুনা সেতু পার হয়ে ঢাকা, যার বাস্তব দূরত্ব দাঁড়ায় ৪০৫ কিঃমিঃ। যমুনা সেতু দিয়ে চলাচলের আগে একতা এক্সপ্রেস ২ রেক নিয়ে চলতো। কিন্তু সরাসরি সেতু পারাপার এর কারণে ১ রেকেই যথেষ্ট হলো। দিনাজপুর থেকে বালাসী ঘাট যে রেক টা যেতো, সেটাকেই একতা এক্সপ্রেস হিসেবে চালানো অব্যাহত রাখা হলো। আর বাহাদুরাবাদ থেকে যে রেক টা ঢাকা যেতো, সেটার নাম পরিবর্তন করে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস নামে এখনো চলছে দেওয়ানগঞ্জ টু ঢাকা রুটে।

এ কারণে ময়মনসিংহ, জামালপুর এর অনেক মানুষ এখন পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন কে পুরনো অভ্যাসবশত “একতা” নামেই চিনে। আগে একতা এক্সপ্রেস এর নং ছিলো ৭৪৩/৭৪৪। নতুন নিয়মে এই নং পেলো ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। আর বর্তমান একতা এক্সপ্রেস পেলো নতুন নং ৭০৫/৭০৬। একইভাবে দিনাজপুর টু ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস-ও রুট পাল্টে এর একটি রেক একই নামে চলছে দেওয়ানগঞ্জ টু ঢাকা রুটে। আর তিস্তা এক্সপ্রেস এর অপর রেক টি আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস নাম নিয়ে চলছে দিনাজপুর টু শান্তাহার রুটে।

এছাড়া ৭ আপ/৮ ডাউন উত্তরবঙ্গ মেইল নামে অপর একটি মেইল ট্রেন-ও চলতো দিনাজপুর টু ঢাকা রুটে। এর পশ্চিমাঞ্চলীয় রেক টি এখন চলে পঞ্চগড় টু শান্তাহার রুটে। আর পূর্বাঞ্চলীয় রেক টি ভাওয়াল এক্সপ্রেস নাম নিয়ে চলছে দেওয়ানগঞ্জ টু ঢাকা রুটে। অর্থাৎ, বলা যায় বাহাদুরাবাদ ঘাট এর সন্নিকটে দেওয়ানগঞ্জ স্টেশন হতে ঢাকা অভিমুখী ৩ ট্রেন-ই দিনাজপুর টু ঢাকা রুটের পূর্বের ৩ ট্রেন এর উত্তরসূরী।

মূলত যমুনা ব্রীজ এর কারণেই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তে আমূল পরিবর্তন আসে। অনেক ট্রেন এর রুট পরিবর্তিত হয়। কিছু নতুন ট্রেন এর জন্ম হয়। এমনি ভাবে ২০০৫ সালে দিনাজপুর টু ঢাকা রুটে নতুন করে চালু হয় আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন। বর্তমানে দিনাজপুর হতে ঢাকা সরাসরি চলছে এই ২ আন্তঃনগর ট্রেন একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস। পুনরায় একতা এক্সপ্রেস প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বিগত ৩১ বছরে কত লক্ষ যাত্রী একতা এক্সপ্রেস এ ভ্রমণ করেছে, তার হিসেব করা মুস্কিল। সময়ের পরিবর্তনে উত্তরবঙ্গ হতে ঢাকা অভিমুখী আরো বেশ কয়েকটি ট্রেন চালু হয়েছে, কিন্তু তাতেও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি একতা এক্সপ্রেস এর।

কম খরচে ঢাকা যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে একতা এক্সপ্রেস সেই শুরুর দিন থেকে আজো সমান জনপ্রিয়। এই কয়েক বছর পূর্বেও মাত্র ১৮৫ টাকায় ঢাকা আসা যেতো একতা এক্সপ্রেস এর শোভন সাধারণ আসনে! আর কিছুটা আরামদায়ক শ্রেণী তথা শোভন চেয়ার কোচ এ ভাড়া ছিলো মাত্র ২৫০ টাকা। এর পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর কামরাও পাওয়া যেতো স্বল্প মূল্যেই। ১৯৯২ এর পর প্রথম ২০১২ সনে রেল এর ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। এরপর আরেক দফা বৃদ্ধির পর বর্তমানে ঢাকা থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত সর্বনিম্ন মূল্যের আসন শোভন চেয়ার পাওয়া যায় ৪৬৫ টাকায়। উল্লেখ্য যে আরামদায়ক নয় বিধায় শোভন সাধারণ আসন তুলে দেওয়া হয়েছে একতা এক্সপ্রেস হতে। বর্তমানে নতুন আমদানিকৃত রেল কোচ গুলো তে সর্বনিম্ন মূল্যের আসন হিসেবেই পাওয়া যাচ্ছে আরামদায়ক শোভন চেয়ার আসন।

একতা এক্সপ্রেস এর জন্য আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হয় ২০১৬ সনের ২রা সেপ্টেম্বর। এদিন একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন-দ্বয় বাংলাদেশ এর ইতিহাসে প্রথম গেজ পরিবর্তন করে মিটারগেজ হতে ব্রডগেজ ট্রেন এ রূপান্তরিত হয়। ইন্দোনেশীয় পিটি ইনকা কোম্পানি হতে ২০০৭ সনে আমদানিকৃত উন্নতমানের এবং সাদা রঙ এর ব্রডগেজ কোচ দ্বারা এদের রেক প্রতিস্থাপন করা হয়। শোভন চেয়ার কোচ এর পাশাপাশি একতা এক্সপ্রেস এ যুক্ত হয় আরামদায়ক এসি চেয়ার কোচ (স্নিগ্ধা) ও এসি ফার্স্ট ক্লাস (কেবিন) কোচ। এর ঠিক প্রায় সাড়ে ৩ মাস পর পুনরায় একতা এক্সপ্রেস এর রেক পরিবর্তন হয়। ২০১৬ সনেরই ১৫ই ডিসেম্বর তারিখে, ইন্দোনেশীয় পিটি ইনকা কোম্পানি হতে সম্পূর্ণ নতুন আমদানিকৃত, উন্নতমানের ও আধুনিক সুবিধাসম্বলিত, লাল-সবুজ রঙ এর রেক দ্বারা নতুন করে সজ্জিত হয় একতা এক্সপ্রেস, যা বর্তমানে চলছে সগৌরবে।

নতুন এই রেক এ সর্বনিম্ন আসন শোভন চেয়ার, যার মূল্য ৪৬৫ টাকা। ৮৯২ টাকায় মিলে এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) আসন। ট্রেন টি তে এসি ও নোন এসি কেবিন-ও রয়েছে। রয়েছে ২ টি ডাইনিং কার, যা থেকে সুস্বাদু ও মুখরোচক খাদ্য সরবরাহ করা হয়। নামায এর জন্য পৃথক জায়গার ব্যবস্থা রয়েছে আগের মতোই। সবচেয়ে চমকপ্রদ যে সেবা যুক্ত হয়েছে, তা হলো- এতে প্রতি সারি সীট বরাবর দুই পাশে পৃথক পৃথক জানালা, আর প্রতি জানালার পাশেই মোবাইল চার্জ এর পয়েন্ট এর ব্যবস্থা আছে। আশা করা যায় হয়তো কখনো ফ্রি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক এর ব্যবস্থাও করবে রেল কর্তৃপক্ষ। তেমন প্রক্রিয়া চলমান।
একতা এক্সপ্রেস ট্রেন টি বর্তমানে ১২ টি ব্রডগেজ কোচ নিয়ে চলছে।

এর মাঝে ৬ টি শোভন চেয়ার কোচ, ১ টি এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) কোচ, ১ টি এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ, ১ টি নোন-এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ, ১ টি প্রেয়ার রুম সংযুক্ত পাওয়ার কার ও ২ টি ডাইনিং রুম সংযুক্ত গার্ডব্রেক কোচ।
ধারণক্ষমতা দিনে ৮৫২ জন, আর রাতে ৮০২ জন। বিশেষ বিশেষ সময়ে কোচ বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। ট্রেন-টির বেইজ পার্বতীপুর। অর্থাৎ এর রক্ষণাবেক্ষণ সহ আনুষঙ্গিক কাজ সেখানেই করা হয় সাধারণত সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে। একতা এক্সপ্রেস এর সাপ্তাহিক বন্ধ দিনাজপুর থেকে সোমবার ও ঢাকা থেকে মঙ্গলবার। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০ টায় ঢাকা হতে এবং রাত ১১ টায় দিনাজপুর হতে ছেড়ে আসে একতা এক্সপ্রেস।
ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় এর নং হয় ৭০৫ আপ, আর দিনাজপুর হতে ছাড়ার সময় এর নং হয় ৭০৬ ডাউন।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাত্রাপথে ট্রেন টি যে সকল স্টেশন এ বিরতি দেয়, তা নিম্নরূপঃ ঢাকা (কমলাপুর) – ঢাকা বিমানবন্দর – জয়দেবপুর – টাঙ্গাইল – যমুনা সেতু (পূর্ব) – শহীদ এম মনসুর আলী – ঈশ্বরদী বাইপাস – নাটোর – শান্তাহার – আক্কেলপুর – জয়পুরহাট – পাঁচবিবি – বিরামপুর – ফুলবাড়ি – পার্বতীপুর – চিরিরবন্দর – দিনাজপুর। উল্লেখ্য যে, ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার সময় সিরাজগঞ্জ শহর সংলগ্ন শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন এবং ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন এ বিরতি দিলেও দিনাজপুর হতে ঢাকা আসার সময় উক্ত ২ স্টেশন এ বিরতি দেয় না একতা এক্সপ্রেস। সম্প্রতি একটি কানেক্টিং শাটল ট্রেন এর মাধ্যমে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের যাত্রী গণ দিনাজপুর হতে ঢাকা অভিমুখী ৭০৬ ডাউন একতা এক্সপ্রেস এর সেবা নিতে পারছেন।

দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অংশের মানুষ এর ঢাকা যাতায়াত এর অন্যতম মাধ্যম আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ট্রেন। উক্ত অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনে যথাসাধ্য ভূমিকা রাখছে ট্রেন টি।
অতীতের স্বর্ণালী দিনের সাক্ষর বর্তমানেও রেখে চলেছে প্রতিনিয়ত। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে আরো উন্নত সেবা দেবে বলে আশাবাদ। উত্তরবঙ্গের লাখো-কোটি মানুষের প্রাণের স্পন্দন হিসেবে তার ভক্ত-অনুরাগী গণ কে সব সময় একই সূত্রে গেঁথে রাখুক প্রিয় ট্রেন আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস।

Facebook Comments

You may also like

বীরগঞ্জে ইট ভাটা মালিকের তান্ডবে নারীসহ ৭ জন হাসপাতালে

আবাদি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়ার